২/৯/৩০১৮

কুলিকের রোববার

আয়ুরেখা

সুজিত দাস

ঘোষপুকুর বাইপাস ধরে ফুলবাড়ি মোড়। এইটুকুনি রাস্তা। খানাখন্দ নেই, জেব্রা ক্রসিং নেই। পুরো মাখম। এই রাস্তা ধরে খানিক এগোলেই নন্দনকানন। ঘোষপুকুর বাইপাসের দুপাশে ছোট্ট ছোট্ট কয়েকটি নদী। স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার আগে দু’একটা নদী তো টপকাতেই হবে। আর কে না জানে নদী হলো গিয়ে মানচিত্রের আয়ুরেখা।

সারাদিনের শর্ট কুর্তি আর রিপড্‌ লিভাইস চেঞ্জ করে আটতলার বারান্দায় তুমি আর তোমার টবের সাকুলেন্ট, যুগলে ড্রিঙ্ক নিয়ে বসো যখন, যখন কলকাতা শহরের সব হ্যালোজেন বাতিকে আলোকবর্তিকা বলে উঠতে ইচ্ছে করে, যখন কাট্‌গ্লাস ঘেমে ওঠে গঙ্গার বাতাসে… সেই তীব্র মুহূর্তে স্বেদবিন্দুর মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিটি নুনের দানাকে আমি আয়ুরেখা বলি। তুমি?

বহ্নিদি আমাকে বলেছিল, তোকে ওরা বেশি র‍্যাগ করবে না, আমি কল্লোলকে বলে দিয়েছি। আর কল্লোলদা গিটারের স্ট্রিং ঠিক করতে করতে আমাকে ক্যাপস্টানের মিক্সচার এগিয়ে দিয়েছিল। তবু হোস্টেলের এগারো নম্বর রুমে দেড়ঘন্টায় পঁচিশটা সিগারেট। সঙ্গে সাড়ে সাতশো প্রশ্নমালা। ওই দেড়ঘন্টা গিবসন গিটারের স্ট্রিং আর তোমার প্রেমিকের দুটো নরম চোখ আমার আয়ুরেখা ছিল, বহ্নিদি।

বিন্দোল বাসস্ট্যান্ড থেকে খানিকটা বাঁদিকে যে ফাঁকা মাঠ, সেখানেই কবিসভা। হলুদ আলোর নীচে বাঘের মতো বসেছিলেন নীরদ রায়। সেইদিন রাত্রির ডান দিকে গোলাপ ফুটেছিল। মোরগ ঝুঁটির কার্নিশ থেকে টুকি দিয়েছিল সকালের রোদ।

আর সেদিনই আমার বাদামি আয়ুরেখা দেখে তপনকিরণ বলেছিলেন, তোর হাতে কবিতা এবং কলকাতা, কোনোটাই নেই। ‘দুপুর ঠাকুরপো’ হয়ে যাওয়াই তোর অনিবার্য ভবিষ্যৎ।

আয়ুরেখা আর কল্পনা এদের দুজনকেই আমি একসাথে ঘোষপুকুর বাইপাসে ছেড়ে এসেছি, বহ্নিদি।

20