৩০/০৮/১৮, ওয়েবডেস্ক: কর্মসংস্থানের প্রশ্নে রাজ্যের পরিস্থিতি এককথায় ভয়াবহ। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতী একটা সম্মানজনক কাজের জন্য মরিয়া। চতুর্থ শ্রেণীর পদের জন্যেও দরখাস্ত করে পি এইচ ডি ধারী থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র !! এই পরিস্থিতিতে নবম দশম শ্রেণীর জন্য এসএসসি র মাধ্যমে চাকরি একরকম মরুভূমিতে বহু প্রতীক্ষিত এক পশলা বৃষ্টির মতো স্বস্তিদায়ক হলেও তার মেধাতালিকা নিয়ে উঠে আসছে একের পর এক অভিযোগ !!

দিন কয়েক আগেই বঙ্গ রাজনীতি তোলপাড় হয়ে উঠেছিল কোচবিহারের নেতা পরেশ অধিকারীর মেয়ের হটাৎ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মেধা তালিকার ওয়েট লিস্টে প্রথমে উঠে আসা নিয়ে। প্রবল জনরোষ আর ক্ষোভের মুখে তড়িঘড়ি সেই নাম তালিকা থেকে মুছতে বাধ্য হয় শিক্ষা দফতর। কিন্তু
এরপরেও বিতর্ক থামেনি। বরং একের পর এক আরো নানান অভিযোগ উঠেই আসছে শিরোনামে।
অঙ্কিতা অধিকারীর নাম কিকরে রাতারাতি উঠে এলো এসএসসির সফল চাকরিপ্রার্থীদের তালিকায় সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনও। আবার এরইমধ্যে আরও অনিয়ম ধরা পড়ল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফলে। তাই হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে এসএসসির মেধাতালিকা প্রকাশের পরেও নতুন করে কালো মেঘ। আবারও বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের নজরে আনতে চলেছে শিক্ষকদের সংগঠন।

এই মেধা তালিকায় বাংলা (পিজি) বিষয়ে বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয়ের সাধারণ বিভাগে মহিলাদের জন্যে তৈরি তালিকায় ১২ নম্বরে রয়েছে রেখা পালের নাম, যার রোল নম্বর-৩২২২১৬০৪০০০৩২৭১,অথচ মহিলা ও পুরুষদের যৌথ তালিকায় রেখা পালের নাম ৪ নম্বরে। এখানেই উঠেছে প্রশ্ন ! রেখা পালের আগে থাকা ১১ জন মহিলা প্রার্থীর নাম রয়েছে মহিলাদের জন্যে সংরক্ষিত তালিকায়। তাহলে কম্বাইন্ড অর্থাৎ পুরুষ ও মহিলাদের যৌথ তালিকায় কী করে রেখা পালের নাম ৪ নম্বরে এল ? এই একই বিষয়ের মহিলাদের তালিকায় দুই নম্বরে থাকা ডালিয়া বেরা ঘোষের (রোল নম্বর-৪২২২১৬০৪০০৪০১৮) নামই নেই মহিলা ও পুরুষদের যৌথ তালিকায়।

এঁরা ব্যতিক্রম নন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ( পিজি ) বিষয়ে বাংলা মাধ্যমের মহিলাদের তালিকায় ১ নম্বরে রয়েছে শ্রাবন্তী নায়েকের নাম (রোল নম্বর-১২২২১৬২৭০০০৯৩১) এবং ২ নম্বরে রয়েছে উৎপলা সেনগুপ্তর নাম(রোল নং-২২২২১৬২৭০০০১৭১)। অথচ পুরুষ ও মহিলার যৌথ তালিকায় এই দুজনের নাম নেই। তবে মহিলা তালিকার শেষ দিকে থাকা প্রার্থীদের নাম চলে এসেছে এই যৌথ তালিকার প্রথম দিকে।

২০১৬ সালে এসএসসির একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণিতে নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হয়। ফলাফল জানাতে কোনও মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে উত্তীর্ণ হওয়ার খবর জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁদের মৌখিক পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং এর জন্যেও ডাকা হয় এসএমএস করেই। সন্দেহ তৈরি হওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কিছু পরীক্ষার্থী। তারপরই হাইকোর্টের নির্দেশে মেধা তালিকা বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু তারপরে যে মেধাতালিকা প্রকাশ হল অসচ্ছতা রয়ে গেল তাতেও।

এ ব্যাপারে স্কুল সার্ভিস কমিশনের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি এখনও।
অন্যদিকে তাঁর এসএসসির শিক্ষক নিয়োগের ‘ওয়েট লিস্টে’ হঠাৎ করে মেয়ের নাম ওঠার প্রসঙ্গে এখনও চুপচাপ রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া পরেশ অধিকারীও।

সব মিলিয়ে ধন্দে এবং আশঙ্কায় রয়েছেন অগণিত চাকরিপ্রার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা। তৈরি হচ্ছে সন্দেহের মেঘ, তবে কি আবারো আইনি গ্যাঁড়াকলে ডুবে যেতে চলেছে তাদের জীবন ???

11