দিল্লি, মুম্বাই, রাঁচি, গোয়া এবং হায়দরাবাদ শহর থেকে একসঙ্গে বামপন্থী বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে এদিনই এক বিবৃতিতে সি পি আই (এম)-র পলিট ব্যুরো নিন্দা করেছে। এদিন বিকালে কলকাতায় সীতারাম ইয়েচুরি জরুরি ভিত্তিতে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বলেন, অঘোষিত জরুরি অবস্থা চালাচ্ছে মোদী সরকার। মহারাষ্ট্রের ভীমা কোরেগাঁও হিংসাত্মক ঘটনার পর যারা দলিতদের আক্রমণ করেছিল পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে নেমেছে। যারা দলিতদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং দলিতদের ওপরে আক্রমণের প্রতিবাদ করেছেন পুলিশ তাঁদেরকেই গ্রেপ্তার করছে। শুধু তাই নয়, দানবীয় ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিস্‌ প্রিভেনশন অ্যাক্ট’ (ইউ এ পি এ) এর ধারা প্রয়োগ করেছে যাতে ধৃতরা বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপে মুক্তির অধিকারটুকুও না পেতে পারে। এর বিরুদ্ধে দিল্লিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে, দেখা যাক কী হয়।

ইয়েচুরি বলেন, পুলিশ যদি ধৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তবে আইনমাফিক তার বিচার হোক। কিন্তু আগে এখনই তাদের মুক্তি দিতে হবে। এভাবে দানবীয় আইনে গ্রেপ্তার করা কেউ মেনে নিতে পারে না।

তিনি বলেন, মোদী সরকারের স্বৈরশাসনের ফলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা বিপন্ন। কোনোরকম বিরোধী কন্ঠস্বর তারা সহ্য করতে পারছে না। কেউ বিরোধিতা করলেই তাঁর ওপরে আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে। এভাবে বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে গোটা দেশের মানুষকে আতঙ্কিত করার বার্তা দিচ্ছে। এই সরকারের হাতে দেশের মানুষের জীবনজীবিকাই শুধু আক্রান্ত নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই আক্রান্ত। সংসদীয় প্রক্রিয়াগুলিকেও অমান্য করা হচ্ছে, বিচারবিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এই সরকারের হাতে সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত।

ইয়েচুরি বলেন, সংসদে অর্থ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথা মেনে কমিটির রিপোর্টে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু দুটো মতই রেখে দিয়ে সংসদে পেশ করা হতো। এখন সেটাও অমান্য করা হচ্ছে কারণ সরকার চায় না যে নোট বাতিলের ফলে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির তথ্য মানুষের সামনে আসুক।

28