গত আগস্টের ১৬ তারিখ থেকেই পেট্রল-ডিজেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সেদিন ডলারের তুলনায় টাকার দাম সর্বনিম্ন স্তরে নেমে ৭০ টাকা ৩২ পয়সা হয়েছিল। সেই থেকে গত ১২ দিনে শুধু দিল্লিতেই লিটার প্রতি ডিজেলের দাম বেড়েছে ৭৪ পয়সা এবং পেট্রলের দাম বেড়েছে ৭৭ পয়সা। যখনই পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ে, কেন্দ্রীয় সরকার উৎপাদন শুল্ক কমিয়ে দিক বলে দাবি ওঠে। কিন্তু কখনও কেন্দ্র সেই পদক্ষেপ নেয়নি বললেই চলে। বরং পেট্রল-ডিজেলের দাম কমলে রাজস্ব সংগ্রহ ধরে রাখতে কেন্দ্র দ্রুত বাড়িয়েছে উৎপাদন শুল্ক। ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে অশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক দাম অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তার পরিণতিতে দেশেও কমে যাওয়ার কথা ছিল পেট্রল-ডিজেলের দাম। তখন মোদী সরকার রাজস্ব সংগ্রহ যাতে না কমে, তার জন্য নয় দফায় উৎপাদন শুল্ক বাড়িয়েছিল পেট্রলে লিটার প্রতি ১১ টাকা ৭৭ পয়সা এবং ডিজেলে ১৩ টাকা ৪৭ পয়সা। এভাবে জ্বালানি তেলের দাম কমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল সাধারণ মানুষকে। শুধু গত অক্টোবরে একবারই লিটার প্রতি ২ টাকা উৎপাদন শুল্ক কমানো হয়েছিল দুই জ্বালানির ক্ষেত্রে। এ‍‌ই পথে হেঁটে মোদী সরকার ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত চার বছরে জ্বালানি তেল থেকে উৎপাদন শুল্ক বাবদ রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণকে দ্বিগুণেরও বেশি মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।. দিল্লিতে দেশের অন্য তিন মহানগরের তুলনায় বিক্রয় কর বা মূল্যযুক্ত করের হার কম হওয়ায় পেট্রল ও ডিজেল উভয়ের দামই চার মহানগরের মধ্যে সব থেকে কম। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলি এদিন লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ১৪ পয়সা এবং পেট্রলের দাম ১৩ পয়সা বাড়িয়েছে। ফলে সারা দেশে ডিজেলের সঙ্গে এদিন পেট্রলের দামও বেড়েছে। দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে তা বেড়ে হয়েছে লিটার প্রতি যথাক্রমে ৭৭ টাকা ৯১ পয়সা, ৮০ টাকা ৮৪ পয়সা, ৮৫ টাকা ৩৩ পয়সা এবং ৮০ টাকা ৯৬ পয়সা। ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ে যাওয়ায় অশোধিত তেল আমদানির খরচ বেড়েছে বলেই পেট্রল-ডিজেলের এই দাম বৃদ্ধি বলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলির তরফে জানানো হয়েছে।

7