২৭শে মে, বিশেষ প্রতিবেদন, কলকাতাঃ শিক্ষক রাজকুমার রায় হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ধৃত শিক্ষকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে রাজ্য জুড়ে নানা রূপের প্রতিবাদ যেমন চলছে কোথাও মৌন মিছিল, কোথাও দৃপ্ত কন্ঠে আওয়াজ তুলে। কিন্তু গত ২৪ ঘন্টায় যে অভিনব প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে এই রাজ্যের বুকে তা এক কথায় অভূতপূর্ব।

এমনও যে প্রতিবাদ আন্দোলন হতে পারে তা বড় বড় তথ্য প্রযুক্তি পন্ডিতেরও ধারনার অতীত। আর এবার প্রতিবাদের লক্ষ্যও অভিনব। মিডিয়া, মূলত সর্বাধিক প্রচারিত দুটি বাংলা নিউজ চ্যানেলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঝড় এবার আছড়ে পড়লো। রায়গঞ্জের শিক্ষক হত্যা, দুই শিক্ষকের গ্রেপ্তারী ও তার পরবর্তী শিক্ষক আন্দোলনের সংবাদ বাংলার প্রথম সারির নিউজ চ্যানেল ও খবরের কাগজগুলিতে সেভাবে পরিবেশিত হচ্ছে না বলেই মনে করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। আর সেই ক্ষোভ থেকেই এই চ্যানেলগুলির ফেসবুক পেজ গুলিতে গণহারে ১টি তারা রেটিং হিসাবে দিতে শুরু করেন শিক্ষকরা। সর্বাধিক ৫টি তারা রেটিং হিসাবে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও এর ফলে জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেলগুলির গড় রেটিং কমতে থাকে। একটি চ্যানেলের রেটিং ৪ এর কাছাকাছি থেকে নেমে দাড়ায় ১.৭ অপর একটি চ্যানেলের গড় রেটিং নেমে দাড়ায় তিন এর কাছে। গতকাল দুপুরের পর থেকে টনক নড়ে এই মিডিয়া মালিকদের। তারাও তাদের সর্বশক্তি দিয়ে নেমে পড়েন ড্যামেজ কন্ট্রোলে। দিনের শেষে বহু চেষ্টা করেই প্রথম চ্যানেলটির রেটিং কোনরকমে ২ এর উপরে উঠেছে। কি এই রেটিং। রেটিং কম বেশিতে কি লাভ বা ক্ষতি জানতে চাইলে কলকাতার এক তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জানালেন আপাত দৃষ্টিতে কোম্পানীগুলো এই ব্যবস্থা রাখেন তাদের কাস্টোমার ফীডব্যাক নেওয়ার জন্য। একটি তারা রেটিং মানে তা খুবই অপছন্দের সংকেত। যেকোনো ব্যবসায় কাস্টোমার ফীডব্যাক সার্ভে করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এক্ষেত্রে শিক্ষকদের রাগ বা ক্ষোভ এর প্রতিফলন যে ফেসবুক পেজ এ রেটিং এ গিয়ে পড়বে তা কোম্পানীর বড় বড় কর্তা বা তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরও মাথায় আসেনি। কি হতে পারে এর ফলে! তিনি জানালেন, বিভিন্ন বিজ্ঞাপণ সংস্থা কিন্তু এই বিষয়গুলির উপর ধারাবাহিকভাবে নজর রাখে। ফলে বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে আয় ক্ষেত্রে একটা ক্ষতি হলেও হতে পারে বলেই মনে করছেন এই তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। এদিকে ফেসবুকে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিভিন্ন গ্রুপ গুলিতে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে আগামীতে নিউজ চ্যানেলগুলির টি আর পি কমানোর জন্য সংগঠিত উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে। সব মিলিয়ে প্রতিবাদের পদ্ধতি অভিনব। এর পথ আগামীতে কোন দিকে যায় সেদিকে কৌতুহল নিয়ে নজর রাখছেন তথ্য প্রযুক্তি ও মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা।

17